রাজধানী

জনগণের ভোট আমার কাছে আমানত, আমি তাদের সেবকঃ কাউন্সিলর রতন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মানবিতকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। এই ওয়ার্ডটি অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আওতায় রয়েছে- সচিবালয়, প্রেসক্লাব, সরকারী অনেক দপ্তর, পরিবহনের বিশাল সেক্টর, মার্কেট, হকার, অফিস-আদালত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস সহ অনেক প্রতিষ্ঠান। কাউন্সিলর রতন ইতিমধ্যে একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন ও সততায় জনতার কাউন্সিল হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছেন। বিশ্ব আতঙ্ক মহামারী করোনায় নিজেকে মানবতার শপথে অসহায়, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিবারের প্রতি যেমন সতর্ক ছিলেন, তেমনি মানুষের প্রতি ছিলেন দায়বদ্ধ। তাই পরিবারের সাথে একটু দূরত্ব করে হলেও সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। রাত-দিন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খাদ্য সামগ্রী ও প্রধানমন্ত্রী এবং সিটি করপোরেশনের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেন নিজ হাতে। অন্যদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে শত্রুতার সৃষ্টি করেছেন অনেক অজানা মুখোশধারীর সাথে। এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে বসিয়েছিলেন সিটি টিভি ক্যামেরা। কিন্তু রাতের আধারে গামছা বেধে এসে সব ক্যামেরা তছনছ করে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে চক্রটি। অন্যদিকে, তার ওয়ার্ডে গুলিস্তান হওয়ায় “হকারদের বড় একটি অংশ” বসে। সিটি করপোরেশনের ঘোষণা অনুযায়ী হকারদের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারই আলোকে নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে কাউন্সিলর রতন হকারদের পুণঃবাসনে গুরুত্ব আরোপ করলেও একটি চক্রের ষড়যন্ত্রের কারণে হকার উচ্ছেদ সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, মাকদ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিচ্ছবি রূপে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন স্থান পেয়েছে। রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে। দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের পতাকা তলে নিজেকে তৈরি করেন, তারপর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সততা ও চ্যালেঞ্জের সাথে। একজন কাউন্সিলর যে তার ওয়ার্ডটিকে পরিবার করে নিতে পারেন তার জলন্ত উদাহরণ রতন। ২০নং ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিকায়নে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন তিনি। তবে কাউন্সিলর রতন উরে আসা জুড়ে বসা কোকিল না, আর্থিকভাবে স্বচ্ছ ও কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে সরকারকে রাজস্ব দিছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে বুকে শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী হয়ে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তিনি। যানজট নিরসন নিয়ে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন বলেন, যেহেতু গুলিস্তান একটি কমার্শিয়াল এরিয়া তাই ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থাকা সত্তেও রাস্তায় টার্মিনাল বানিয়ে রেখেছে কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে গাড়ি এসে গোলাপসার মাজার এসে ভিড় করে করতে দেয়া যাবে না। গাড়িগুলিকে এখানে থামতে দেয়া হলে যানজট কমানো সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে নতুন আইন করতে হবে, যারা পরিবহনে শৃঙ্খলা মানবে না তাদেরকে নির্দিষ্ট একটি সময় সাজার ব্যাবস্থা করুন। দেখবেন সাজার ভয়ে পরিবহনে শৃঙ্খলা তারা মানতে বাধ্য হবে। করোনায় কেন ঝুঁকি নিয়ে মানবতার জন্য ঝাপিয়ে পরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের ভোটাধিকার আমার পক্ষে সুতরাং মানুষের জন্য আমার কাজ করতে হবে। নৈতিক দায়িত্ব থেকেই আমার পরিবার আমাকে সমর্থন দিয়েছে এবং আমার জন্য নিয়মিত খাবার পাঠিয়েছে সেই সময়। এজন্য আমি আমার পরিবারের কাছেও কৃতজ্ঞ। রতন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তোমরা ভোটের সময় যে ভাবে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভেঅট চেয়েছো ঠিক সেই ভাবে সাধারণ মানুষের ধারে ধারে গিয়ে তাদের সুবিধা অসুবিধার খোঁজ খবর নাও। আমি প্রধানমন্ত্রীর সেই কথা পালন করার চেষ্টা করছি মাত্র। জন্ম যখন হয়েছে মরতে আমাকে হবেই। তবে যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা যথাযথ ভাবে পালন করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, এর বাহিরেও আমাদের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবও আমাদের ওয়ার্ডে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন। এটাও আমরা দিয়েছি। সেগুনবাগিচা সোসাইটি ১০০ পরিবারকে দিয়েছে। এটাও আমরা দিয়েছি। ব্যক্তিগত ভাবে একজন কাউন্সিলর হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মানার জন্য কাজ করছি। নেত্রী বলেছেন, ভোট যেভাবে তোমরা চেয়েছো, ঠিক সেভাবে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেও। আমি চেষ্টা করেছি আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমার নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। এটাই হচ্ছে আমার সফলতা। নেত্রীর নির্দেশ পালন করতে পেরেছি এটায় আমি সার্থকতা। এজন্য আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। বাসায় না গিয়ে দীর্ঘ এই সময় কার্যালয়ে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রতন বলেন, আমি যদি বাসায় থাকতাম এইমানুষগুলো আমাকে পেত না। কারণ আমি যে বাসায় থাকি সেখানে অনেকগুলো পরিবার থাকে। কোনো পরিবারেই আমাকে সেখানে এলাউ করত না। বিশেষ করে আমার ৩ কন্যা সন্তান ও আমার স্ত্রী আছে। প্রতিদিন আমার শতশত মানুষের সাথে মিশতে হয়। মহান আল্লাহ আমাকে মাফ করুন আমার যদি কিছু হয় তাহলে আমি চাই না আমার জন্য আমার পরিবার কোনো সংকটে পড়ুক। দ্বিতীয় হচ্ছে আমি যদি আমার পরিবারকে সময় দেই তাহলে আমি এখন পর্যন্ত যে ৬ হাজারের ও অধিক পরিবারের কাছে যেতে পেরেছি এটা আমার দ্বারা সম্ভব হত না। আমার লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। আমার রাজনীতি মানুষের জন্য। আমি একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমি নেত্রীর একজন সিনিয়র কর্মী হিসেবে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। করোনাকালীন কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, আমার ওয়ার্ডে যারা ছিন্নমূল, হতদরিদ্র, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা আমার এখানে বসবাস করে তাদের প্রত্যেকের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। পাশাপাশি সরকারি যেসব সাহায্য এসেছে বিশেষ করে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চাল, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে
ওএমএস চাল এগুলো আমরা তাদেরকে পৌঁছে দিচ্ছি। ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন পরিশেষে বলেন, আমি ২০নং ওয়ার্ডকে মডেল ওয়ার্ড ও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে সব বাধা এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লা
Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close